নোট: কালো রঙের জন্য একটি কেমিক্যাল বেশি লাগে এবং অন্যান্য রঙের জন্য একটি কেমিক্যাল কম লাগে অর্থাৎ লাল বোতলে থাকা কেমিক্যালটি শুধুমাত্র কালো রঙের জন্য। দয়া করে লাল বোতলে থাকা কেমিক্যালটি অন্যান্য রঙে ব্যবহার করবেন না শুধুমাত্র কালো রঙে ব্যবহার করবেন।
১. কেমিক্যাল পরিচিতি ও এগুলোর কাজ
রঙ করার প্রক্রিয়াটি সফল করতে তিনটি মূল উপাদানের ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
- কালো বোতল (মূল রঙ): এটি হলো সালফার ডাই বা মূল রঞ্জক পদার্থ যা কাপড়ের সুতার রঙ পরিবর্তন করে।
- লাল বোতল (সোডিয়াম/রিডিউসিং এজেন্ট): এর কাজ হলো কঠিন বা দানাযুক্ত রঙকে গরম পানিতে পুরোপুরি গলিয়ে ফেলা এবং কাপড়ের সুতার গভীরে রঙ প্রবেশ করতে সাহায্য করা। বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি মূলত গাঢ় কালো রঙের স্থায়ীত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- সাদা বোতল (সোডা অ্যাশ/ফিক্সার): এর প্রধান কাজ হলো রঙকে কাপড়ের সুতার সাথে স্থায়ীভাবে আটকে দেওয়া (Fixing)। এটি ব্যবহার না করলে ধোয়ার সময় রঙ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- খাবার লবণ: এটি রঙকে পানি থেকে কাপড়ের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে রঙটি কাপড়ে গাঢ়ভাবে বসে।
২. উপযোগী কাপড়
- রঙ হবে: ১০০% কটন বা সুতি, ডেনিম বা জিন্স এবং গ্যাবার্ডিন কাপড়।
- রঙ হবে না: পলিয়েস্টার, নাইলন, সিল্ক বা প্লাস্টিক মিশ্রিত সিন্থেটিক কাপড়।
৩. রঙ করার বিস্তারিত ধাপসমূহ
ধাপ ১: কাপড় প্রস্তুতি
প্রথমে কাপড়টি সাধারণ পানি দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন যেন কোনো ময়লা বা মাড় না থাকে। এরপর কাপড়টি চিপে নিন যাতে সেটি ভেজা থাকে। (শুকনো কাপড়ে রঙ করলে সব জায়গায় সমানভাবে রঙ বসে না)।
ধাপ ২: পারফেক্ট মিশ্রণ তৈরি
- চুলায় ৫-৬ লিটার পানি দিয়ে খুব ভালো করে ফুটিয়ে নিন (ফুটন্ত গরম পানি অপরিহার্য)।
- একটি আলাদা মগে এক মগ গরম পানি নিন। এতে ২-৩ চামচ কালো বোতলের রঙ, ২-৩ চামচ লাল বোতলের কেমিক্যাল এবং ৫-৬ চামচ খাবার লবণ দিন।
- একটি কাঠি দিয়ে মিশ্রণটি খুব ভালো করে নাড়ুন যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো দানা থাকে। লাল বোতলের কেমিক্যালটি রঙকে পুরোপুরি তরল করতে সাহায্য করবে।
ধাপ ৩: কাপড় ভেজানো ও নাড়াচাড়া (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
- একটি পুরাতন প্লাস্টিকের বালতিতে বড় পাত্রের ৫-৬ লিটার ফুটন্ত গরম পানি ঢালুন এবং তাতে মগে তৈরি করা রঙের মিশ্রণটি মিশিয়ে দিন।
- এবার ভেজা কাপড়টি বালতির রঙ মেশানো পানিতে ছেড়ে দিন।
- ৩০ মিনিট কাপড়টি ডুবিয়ে রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, কাপড় একভাবে ফেলে রাখা যাবে না। প্রতি ৩-৫ মিনিট পরপর একটি কাঠি দিয়ে কাপড়টি ভালো করে উল্টেপাল্টে দিন। নাড়াচাড়া কম হলে কাপড়ে ছোপ ছোপ দাগ বা অসম রঙ হতে পারে।
ধাপ ৪: বাতাস লাগানো (অক্সিডেশন)
৩০ মিনিট পর কাপড়টি রঙের পানি থেকে তুলে চিপবেন না। পানি ঝরিয়ে নিয়ে হালকা বাতাসে বা ফ্যানের নিচে ৫ মিনিট মেলে রাখুন বা নাড়ুন। বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সালফার রঙটি কাপড়ে স্থায়ী রূপ নেয় এবং প্রকৃত রঙ ফুটে ওঠে।
ধাপ ৫: সোডা ওয়াশ (রঙ স্থায়ী করা)
- ৫ লিটার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ২-৩ চামচ সাদা বোতলের সোডা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
- বাতাসে রাখা কাপড়টি এবার এই সোডার পানিতে ডুবিয়ে ৫ মিনিট ভালো করে নাড়াচাড়া করে ধুয়ে নিন। এটি কাপড়ের রঙকে লক করে দেবে।
ধাপ ৬: চূড়ান্ত ধোয়া ও শুকানো
সবশেষে কাপড়টি হালকা কোনো ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন যাতে বাড়তি রঙ চলে যায়। এরপর কাপড়টি সরাসরি কড়া রোদে না দিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বাতাসে শুকিয়ে নিন। কড়া রোদ রঙের উজ্জ্বলতা নষ্ট করতে পারে।
জরুরি কিছু টিপস:
- সঠিক পরিমাপ: সাধারণত একটি প্যান্টের জন্য ২-৩ চামচ রঙ ও সোডিয়াম লাগে। তবে কাপড় বড় বা ভারি হলে পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিন।
- নিরাপত্তা: রঙ করার সময় হাতে গ্লাভস এবং নাকে মাস্ক ব্যবহার করা ভালো, কারণ কেমিক্যালের একটি তীব্র গন্ধ থাকতে পারে।
- সতর্কতা: রঙ করা কাপড়টি প্রথম ১-২ বার ধোয়ার সময় অন্য পরিষ্কার কাপড়ের সাথে ধোবেন না।
